channel i online
ঢাকাThursday , 4 September 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইস্ক্রিন
  4. আদালত
  5. আনন্দ আলো
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কর্পোরেট নিউজ
  8. কৃষি
  9. কৃষি ভিডিও
  10. চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  11. জনপদ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. নারী
  14. নীলফামারী
  15. পরিবেশ

ভাইরাল ছবিতে আলোচনায় ড. জায়েদ উর রহমান, সাথে থাকা মহিলার পরিচয় কী?

Link Copied!

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন সাম্প্রতিক তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনে ইলিয়াস লিখেছেন, “হোটেল ওয়েস্টিনে উপদেষ্টা হাঁস খেতে যাবার পর মনে হয়েছে হরিন খেতে গিয়েছিলো! কিন্তু ডিজিএফআইয়ের ঘেঁটু জায়েদ উর বউ নিয়ে ভাতা আনতে গেলে কোন সমস্যা নেই৷ জয় হোক কচুক্ষেতিদের !”

 

পোস্টে দেখা যায়, ঢাকা শহরের এক আভিজাত্য হোটেলের ভেতরে শিক্ষাবিদ ড. জায়েদ উর রহমানের সাথে এক মহিলাকে, একসাথে হাঁটতে। তারা এমন ভাবে যাচ্ছেন যেন দেখে মনে হচ্ছে তারা স্বামী-স্ত্রী। মুহূর্তেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নানা জল্পনা, কল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও বিশ্বস্ত সোর্স জানিয়েছে ইতিপূর্বে তাদের অনেক জায়গায় একসাথে দেখা গেছে।

তদন্ত করে জানা গেছে, ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি হলেন, জায়েদ উর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ফারজানা আলম। ফারজানা আলমের মিরপুর ডিওএইচএস এর বাসায় মাঝে মধ্যেই দেখা যেত জাহেদ উর রহমান কে।

আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের একান্ত ঘনিষ্ঠ এই ফারজানা আলম তাদের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ “ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে দীর্ঘ ১৩ বছর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা” এক পর্যায়ে সাবেক ভিসি ড. মকবুল আহম্মেদ খানের সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে পালিয়ে যান এই ফারজানা আলম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে, ফারজানা আলম রয়েল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এমবিএ সার্টিফিকেট দেখিয়ে ইইউবিতে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের অনুমোদনবিহীন “আইএসএলইএস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি” থেকে প্রাপ্ত ভুয়া পিএইচডি সার্টিফিকেট ব্যবহার করে বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং শেষে ডিন পদে উন্নীত হন।

কিন্তু তদন্তে রয়েল ইউনিভার্সিটি নিশ্চিত করেছে যে, ফারজানা আলম কখনোই তাদের শিক্ষার্থী ছিলেন না। একইভাবে বিবিসি লন্ডনের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, আইএসএলইএস নামের ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদনবিহীন এবং কার্যত একটি শিক্ষাগত প্রতারণার কেন্দ্র।

বিষয়টি উদঘাটিত হওয়ার পর ইইউবি কর্তৃপক্ষ ফারজানা আলমের বিরুদ্ধে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালিয়াতি মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

এমন একজন শিক্ষিকা, যার বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেটে শিক্ষকতা ভিসির সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে আবার ড. জায়েদ উর রহমান এর সাথে রাজধানীর আভিজাত্য হোটেলে দেখা দিলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছুদিন আগে ড. ইউনুস কে সরাতে কঠোর আন্দোলন শুরু হতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন এই জায়েদুর রহমান। তাহলে কি ড. জায়েদুর রহমান তাদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে? সে প্রশ্ন এখন ঘুরছে জনমনে।

ড. জায়েদ উর রহমানের সাথে সম্পর্ক কী, কেন তিনি এমন বিতর্কিত মহিলার সাথে বিভিন্ন যায়গায় দেখা যাচ্ছে? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছে সবাই। যদিও ফারজানা আলমকে ফোনে পাওয়া গেলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক বলে জানান।

 

ড. জায়েদ উর  রহমানের মতো একজন শিক্ষাবিদ এর সাথে বিতর্কিত এ মহিলার হঠাৎ উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।