channel i online
ঢাকাTuesday , 2 September 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইস্ক্রিন
  4. আদালত
  5. আনন্দ আলো
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কর্পোরেট নিউজ
  8. কৃষি
  9. কৃষি ভিডিও
  10. চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  11. জনপদ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. নারী
  14. নীলফামারী
  15. পরিবেশ

১৫ সেকেন্ডের মধ্যে হৃদরোগ শনাক্ত করবে এআই স্টেথোস্কোপ

Link Copied!

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্ট আবিষ্কার করেছে নতুন এক চিকিৎসা প্রযুক্তি। এটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা চালিত স্টেথোস্কোপ। এটি মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে তিনটি ভিন্ন হৃদরোগ সনাক্ত করতে পারে।

১৮১৬ সালে এই স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করা হয়। ব্রিটিশ দল একটি আধুনিক সংস্করণ ব্যবহার করে একটি গবেষণা পরিচালনা করে আধুনিক রূপ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, হৃদযন্ত্রের ভালভ রোগ এবং অস্বাভাবিক হৃদযন্ত্রের ছন্দ শনাক্ত করতে পারে।

পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে ২০৫টি জিপি সার্জারির উপর একটি গবেষণা করা হয়। এটি যুক্তরাজ্য জুড়ে চালুর পরিকল্পনা করছে গবেষকদলটি। ডিভাইসটি ছোট একটি প্লেয়িং কার্ডের আকারের যন্ত্রটি রোগীর বুকে রাখা হলে এর এআই একসঙ্গে ইসিজি সিগন্যাল (হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত) ও হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহের শব্দ গণনা করে। পরে সেটই সংগৃহীত তথ্যগুলো ক্লাউডে পাঠায় এবং এর অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে। ডেটাগুলো এত সূক্ষ্ম যে মানুষের কানে ধরা যায় না। তবে হাই টেকনোলজির এ স্টেথোস্কোপের ব্যবহারে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রোগীর মোবাইল ফোনে রিপোর্ট চলে আসে।

এআই-চালিত নতুন স্টেথোস্কোপের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের প্রায় ২০০টি জিপি ক্লিনিক থেকে ১২ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গে ভুগছিলেন।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এআই স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করা রোগীদের হার্ট ফেলিওর শনাক্তের হার স্বাভাবিকের তুলনায় দুই গুণ বেশি। একই ধরনের ফলাফল মিলেছে হার্ট ভালভ ডিজিজের ক্ষেত্রেও। স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি হারে শনাক্ত হয়েছে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন রোগ— যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

উন্নত প্রযুক্তির এ স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারকে ‘গেমচেঞ্জার’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অধিকাংশ মানুষ হার্ট ফেলিওর শনাক্ত হন তখনই, যখন তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। এআই স্টেথোস্কোপ সেই চিত্র পাল্টে দিতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের উদ্ভাবন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মাইক লুইস বলেন, এটি এক সত্যিকারের ‘গেমচেঞ্জার’। এটি সরাসরি জিপিদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেবে, যাতে তারা কমিউনিটি পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করতে পারেন।

তবে এআই স্টেথোস্কোপের ব্যবহার করে রোগ শনাক্তে ভুলের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই এটি কেবলমাত্র উপসর্গযুক্ত রোগীদের ওপর ব্যবহারের পরমর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত সুস্থতা পরীক্ষার জন্য নয়। তবুও বিশেষজ্ঞদের আশা, যন্ত্রটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাণঘাতী হৃদরোগ শনাক্ত করে অসংখ্য জীবন ও চিকিৎসা খরচ বাঁচাতে সক্ষম হবে।