ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (ইইউবি) শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে যোগ দেওয়া নেতা আসিফ সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় ক্লাসের কথা বলে শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে আন্দোলনে বসানো, আসতে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রলোভন দেওয়াসহ নানা অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আসিফ সরকার একসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরু খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুন্থানে স্বৈরশাসক হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর ছাত্রলীগ ছেড়ে তিনি ছাত্রদলের পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে বহিষ্কৃত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৭ জানুয়ারি বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে বন্ধ থাকা সত্ত্বেও গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ সরকারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসতে চাপ দেন। কেউ আসতে না চাইলে তাকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের ফোন করে ক্লাসের কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। আমরা জানায় যে ক্যাম্পাস বন্ধ, তখন চাপ প্রয়োগ করা হয়। কেউ যেতে রাজি না হলে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “শিক্ষার্থীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে কেউ যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেন, রাজনৈতিক মুক্ত একটি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সহিংসতায় জড়ানোর কোন সুযোগ নেই দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা করা হবে।
